------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------- ------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------- ------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------- -------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

থ্রিডি ষ্টুডিও ম্যাক্স রেন্ডারিং

রেন্ডারিং যে কোন এনিমেশন কিংবা ভিডিও এডিটিং এর শেষ কাজ। আপনি যাকিছু করতে চান করার পর সেখান থেকে চুড়ান্ত ভিডিও বা ইমেজ তৈরী করবেন। ম্যাক্সের ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমনই। এখন পর্যন্ত ম্যাক্সের যেটুকু টিউটোরিয়াল দেয়া হয়েছে তাতে রেন্ডারিং এর মত বিষয় কিছুটা আগে মনে হতে পারে। তাহলেও আগেই যদি জানা থাকে শেষ পর্যন্ত আপনি কি ফল পাবেন তাহলে কাজ করতে সুবিধে হবে, সেকারনে এই টিউটোরিয়াল।
ম্যাক্সে কাজ করার পর আপনি তাকে প্রয়োজনীয় কোন ফরম্যাটে পেতে চান। সেটা হতে পারে এনিমেশন, ভিডিও, বিটম্যাপ ইমেজ কিংবা ভেক্টর গ্রাফিক্স। কোনটি কিভাবে পাবেন জেনে নিন।
আপনি যদি ভেক্টর ফরম্যাটে (ইলাষ্ট্রেটর, অটোক্যাড বা অন্য থ্রিডি ফরম্যাটে) পেতে চান তাহলে এক্সপোর্ট কমান্ড ব্যবহার করবেন। যেহেতু এধরনের ফরম্যাট ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনি সেই বিষয়ে জানেন সেহেতু এবিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হচ্ছে না। মেনু থেকে এক্সপোর্ট কমান্ড সিলেক্ট করে নির্দিষ্ট ফরম্যাট সিলেক্ট করে কাজটি করে নিতে পারেন।
আপনি যদি ভিডিও বা ইমেজ ফাইল হিসেবে রেন্ডার করতে চান তাহলে কিভাবে করবেন সেটা উল্লেখ করা হচ্ছে এখানে।
ম্যাক্সে কাজ করার পর আপনি আপনি একটিমাত্র ফ্রেম (ইমেজ) রেন্ডার করতে পারেন। ইন্টেরিয়র বা এক্সটেরিয়র ডিজাইনের ক্ষেত্রে সেটা প্রয়োজন হয়। যদি তাকে প্রিন্ট করতে হয় তাহলে ব্যবহার করতে পারেন টিফ (TIF), স্ক্রিনে ব্যবহারের জন্য ব্যবহার করতে পারেন জেপেগ (JPEG, JPG)। এছাড়া ভিডিওর জন্য (অনেকগুলি ফ্রেম) সরাসরি এভিআই কিংবা কুইকটাইম হিসেবে রেন্ডার করতে পারেন। যদিও সেটা করা হয় না। বাস্তবে এনিমেটররা রেন্ডার করেন ইমেজ সিকোয়েন্স। প্রতিটি ফ্রেমের জন্য একটি করে ইমেজ। যেমন ২৫ ফ্রেম/মে এনিমেশনের ১ সেকেন্ডের জন্য পাওয়া যাবে ২৫টি ফ্রেম। এদেরকে আফটার ইফেক্টস বা ভিডিও এডিটিং সফটঅয়্যার ব্যবহার করে এরসাথে অন্য ভিডিও বা টেক্সট যোগ করা হয়।
এজন্য সবচেয়ে পরিচিত ফরম্যাট হচ্ছে টারগা (TGA)। একে ট্রান্সপারেন্সির জন্য আলফা চ্যানেল ব্যবহার করা যায়। ফলে খুব সহজে ব্যাকগ্রাউন্ড বাদ দিয়ে সেখানে অন্যকিছু ব্যবহার করা যায়।
আপনি রেন্ডার করতে পারেন দুভাবে। সরাসরি রেন্ডার ডায়ালগ বক্স ব্যবহার করে, অথবা ভিডিও পোষ্ট ব্যবহার করে। সরল এনিমেশনের জন্য সরাসরি রেন্ডার করতে পারেন। ভিডিও পোষ্ট ব্যবহারের সময় একাধিক সিকোয়েন্স ব্যবহার করা যায় এবং ভিডিও পোষ্ট ইফেক্ট (যেমন লেন্স ফ্লেয়ার বা অন্যান্য স্পেশাল ইফেক্ট) ব্যবহার করা যায়। ভিডিও পোষ্ট এর ব্যবহার নিয়ে একটি পুরো টিউটোরিয়াল থাকবে আগামীতে।
আপাতত সাধারন রেন্ডারিং এর জন্য গুরুত্বপুর্ন বিষয়গুলি জেনে নেয়া যাক।
ধরে নেয়া হচ্ছে আপনি মডেল তৈরী, ম্যাটেরিয়াল, লাইট, ক্যামেরা সবকিছু কাজ শেষ করে রেন্ডারি পর্যায়ে গেছেন। এখন রেন্ডার করবেন।
.          রেন্ডার সেটআপ টুলে ক্লিক করুন। রেন্ডার সেটআপ ডায়ালগ বক্স পাওয়া যাবে।
.          শুরুতেই আপনি Common Parameter ঠিক করে নেবেন। আপনি একটি ফ্রেম রেন্ডার করতে পারেন, পুরো এনিমেশন রেন্ডার করতে পারেন অথবা নির্দিষ্ট ফ্রেম থেকে নির্দিষ্ট ফ্রেম পর্যন্ত রেন্ডার করতে পারেন। যা করতে চান সেটা ঠিক করে দিন।
.          আউটপুট সাইজ অংশে প্রিসেট থেকে সরাসরি পল-এনটিএসসি টিভি, এইচডিটিভি, ডিভিডি ইত্যাদি সিলেক্ট করে নিতে পারেন। অথবা নির্দিষ্ট পিক্সেল টাইপ করে মাপ ঠিক করে নিতে পারেন। প্রিন্টে ব্যবহারের জন্য বেশি রেজ্যুলুশন ব্যবহার করুন। আপনি যত বড়ই করুন না কেন, ম্যাক্স তাকে নিখুতভাবে রেন্ডার করবে।
.          ম্যাক্স সিনে এটমোষ্ফিয়ার, ইফেক্ট ব্যবহার করলে রেন্ডারিং এর সেগুলি রাখতে বা বাদ দিতে পারেন। এগুলি ব্যবহার করলে রেন্ডারিং বেশি সময় প্রয়োজন হয় বলে অনেক সময় পরীক্ষামুলক রেন্ডারের জন্য এগুলি বাদ দিতে পারেন।
.          রেন্ডার করা ফাইল কোথায় রাখবেন বলে দেয়ার জন্য Render Output অংশে Files লেখা বাটনে ক্লিক করুন। নির্দিষ্ট ফোল্ডার সিলেক্ট করুন। কোন ফরম্যাটে সেভ করতে চান সিলেক্ট করুন, নাম টাইপ করুন।
টারগা ইমেজ সিলেক্ট করলে সেখানে আরো কিছু তথ্য বলে দিতে পারেন। যদি কম্পোজিট ইমেজ হিসেবে ব্যবহার করেন তাহলে আলফা চ্যানেল (ট্রান্সপারেন্সি) পাওয়ার জন্য ৩২ বিট সিলেক্ট করুন। অন্যান্য ফরম্যাটের জন্যও ভিন্ন ভিন্ন সেটিং ঠিক করে নিতে পারেন।
.          নিচের দিকে Assign Renderer  নামে একটি অংশ পাবেন। সাধারন কাজের জন্য আপনি ব্যবহার করবেন Default Scanline Renderer, তবে অনেক সময় বিশেষ রেন্ডারার প্রয়োজন হতে পারে (যেমন V-Ray কিংবা Mental Ray এর মত এডভান্সড লাইটিং ব্যবহার করলে)।
.          আপাতত অন্যকিছু পরিবর্তন না করে Render বাটনে ক্লিক করুন।
রেন্ডারিং একটি সময়সাপেক্ষ কাজ। আপনার সিন যত জটিল, লাইট-ইফেক্ট যত বেশি সময় তত বেশি প্রয়োজন হবে। দ্রুতগতির কম্পিউটার, বেশি মেমোরী, ভাল গ্রাফিক্সকার্ড ইত্যাদি ব্যবহার করে ভাল ফল পেতে পারেন।

কেন ইমেজ সিকোয়েন্স ফরম্যাটে রেন্ডার করবেন
.          আপনি ভিডিও হিসেবে ব্যবহারের জন্য ভিডিও হিসেবে রেন্ডার করা পছন্দ করতে পারেন। বাস্তবতা হচ্ছে, কখনো কখনো রেন্ডার করতে কয়েক ঘন্টা এমনকি কয়েকদিন সময প্রয়োজন হতে পারে। কোন কারনে সমস্যা হলে, কম্পিউটার বন্ধ করা প্রয়োজন হলে আপনাকে আবারও প্রথম থেকে রেন্ডারিং শুরু করতে হবে। অন্যদিকে ইমেজ সিকোয়েন্স হিসেবে ব্যবহার করলে যতটুকু রেন্ডার হয়েছে তার পর থেকে রেন্ডার করাই যথেষ্ট। কিংবা আপনি আগেই পরিকল্পনা করে নিতে পারেন কখন কোন ফ্রেমগুলি রেন্ডার করবেন।
.          অনেক সময় ম্যাক্সে রেন্ডার করার পর পটোশপের মত সফটঅয়্যারে স্পেশাল ইফেক্ট যোগ করা হয়। যদিও বর্তমান ফটোশপে ভিডিও ফাইল ওপেন করা যায় তাহলেও ষ্টিল ইমেজ ব্যবহার সহজ।
.          নিখুত ট্রান্সপারেন্সি পাওয়া যায়। সব ভিডিও ফরম্যাট ট্রান্সপারেন্সি সাপোর্ট করে না।
.          ভিডিও কোডেক নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই।


রেন্ডারিং এর অন্য বিষয়গুলির সাথে ম্যাক্সের আরো বিভিন্ন বিষয় জড়িত। সেগুলি যথাসময়ে উল্লেখ করা হবে।
Share on Google Plus

About admin

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.
    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments :

Post a Comment

Note: Only a member of this blog may post a comment.