থ্রিডি ষ্টুডিও ম্যাক্সে বাইপেড এবং মোশন ক্যাপচার ব্যবহার করে ক্যারেকটার এনিমেশন

থ্রিডি গেম কিংবা থ্রিডি এনিমেশনে একেবারে মানুষের মত হাটাচলা কিংবা অন্যান্য কাজ করতে দেখে অনেকেরই প্রশ্ন জাগে, একাজ কিভাবে করা হয়। কিংবা কিভাবে নিজে করা যায়। আপনার মনে যদি এমন প্রশ্ন এসে থাকে তাহলে সেটা জানানোর জন্যই এই লেখা।
কাজটি করার পদ্ধতি জেনে নেয়া যাক আগে।
এজন্য প্রথমে চরিত্রটির মডেল তৈরী করা হয়। চুড়ান্ড এনিমেশনে যেমন দেখা যাবে ঠিক তেমনি। কাজের সুবিধের জন্য দুহাত ছড়ানো দা ভিঞ্চি পোজ ব্যবহার করা হয়।
মডেল তৈরী হয়ে গেলে বোন (হাড়) তৈরী করা হয়। বোনকে মানুষের (বা অন্য প্রানীর) কংকালের সাথে তুলনা করতে পারেন। হাতের আঙুল থেকে শুরু করে করোটি পর্যন্ত প্রতিটি অংশের জন্য যে হাড়গুলি রয়েছে তার সাথে মিল রেখে এগুলি তৈরী করা হয়।
এরপর এই কংকালকে মডেলের সাথে জুড়ে দেয়া হয়। ফল হিসেবে এরপর যখন কংকাল সরানো হয় তখন মডেলটিও তারসাথে মিল রেখে সরে। তাকে হাটার ভঙিতে সরালে মনে হবে মডেলটি হাটছে।
ধারনা করতেই পারেন কাজটি বেশ জটিল। থ্রিডি ষ্টুডি ম্যাক্সে এই কাজটি সহজে করার জন্য বাইপেড (Biped) নামে একটি বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। বাইপেড অর্থ দুপায়ে চলা প্রাণী। অর্থাত মানুষ। তবে একে পরিবর্তন করে চারপেয়ে প্রানীর ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যায়। আপনি নিশ্চয়ই জানেন শরীরের সবগুলি জোড়া একইভাবে কাজ করে না। যেমন হাতের আঙুল উল্টোদিকে বাকানো যায় না, মাথা ঘুরিয়ে পেছনদিকে নেয়া যায় না। বোন তৈরী করলে এই বিষয়গুলি ঠিক করে দিতে হয়। আর বাইপেড নিজে থেকেই এই বৈশিষ্টগুলি জানে। অবশ্য বোনের নিজস্ব কিছু সুবিধে রয়েছে। যদি সেগুলি প্রয়োজন হয় তাহলে প্রথমে বাইপেড ব্যবহার করে পরবর্তীতে তাকে বোন-এ পরিনত করা যায়।


বাইপেড কিভাবে কাজ করে জেনে নেয়া যাক
বাইপেড ব্যবহারের জন্য ষ্টিডি ষ্টুডিও ম্যাক্সে Create ট্যাবে Systems থেকে বাইপেড সিলেক্ট করুন এবং Perspective ভিউপোর্টে ড্রাগ করে পছন্দের মাপের বাইপেড তৈরী করুন। তৈরীর পর এর নানারকম বৈশিষ্ট পরিবর্তন করা যাবে। যেমন আঙুলের সংখ্যা, বিভিন্ন যায়গার জোড়ার সংখ্যা, কিংবা ইচ্ছে করলে লেজ জুড়ে দেয়া।
যখন কোন মডেলের সাথে একে ব্যবহার করবেন তখন একে মডেলের মধ্যে এনে তারসাথে মিল রেখে সবগুলি অংশ যায়গামত বসাতে হবে। কাজটি সময়সাপেক্ষ। অন্য টিউটোরিয়ালে এর বর্ননা পাবেন। আপাতত জেনে রাখুন, বাইপেডের সাথে মডেলকে জোড়া দেবার জন্য Physique modifier ব্যবহার করা হয়। 
শরীরের মাংসপেশি, কাপড় এদের প্রত্যেকের নড়াচড়ার বৈশিস্ট আলাদা। মানুষের মাংসপেশি নড়াচড়ার সময় যে আচরন করে রোবটের ক্ষেত্রে সেটা হয় না। মডেলকে সঠিকভাবে নড়াচড়া করার জন্য আরো কিছু মডিফায়ার ব্যবহার করা হয়।

এনিমেশন এবং মোশান ক্যাপচার
বাইপেডকে হাটানো, দৌড়ানো, লাফ দেয়া ইত্যাদি কাজের জন্য তৈরী কিছু ব্যবস্থা রয়েছে। সেগুলি ব্যবহার করে খুব সহজেই সাধারন কাজগুলি করে নেয়া যায়। কিন্তু বাস্তবসম্মত এনিমেশনের জন্য কাজের পদ্ধতি ভিন্ন।
হয়ত লক্ষ করেছেন হলিউডের এনিমেটেড ছবিতে একজন ব্যক্তি বাস্তবের মানুষের মতই হাটে। প্রত্যেকের নিজস্ব ভঙ্গি রয়েছে। আসলে সত্যিকারের মানুষকে অভিনয় করিয়ে এই কাজ করা হয়। হলিউডের একজন নামকরা অভিনেতাকে শরীরের বিভিন্ন অংশে সেন্সর লাগিয়ে মোশন ক্যাপচার ডিভাইস নামের একটি যন্ত্রের সামনে অভিনয় করানো হয়। বোঝার সুবিধের জন্য একে ভিডিও ক্যামেরার সাথে তুলনা করতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে এটি ভিডিও রেকর্ড করে না, সেন্সরগুলি কখন কোন অবস্থানে রয়েছে, কোনদিকে কতটুকু দুরত্ব অতিক্রম করেছে বা ঘুরেছে সেই তথ্য রেকর্ড করে। মোশান ক্যাপচার ডাটা নামের এই তথ্য ফাইল হিসেবে সেভ করা হয় এবং এনিমেশন সফটঅয়্যারে ব্যবহার করা হয়। ফল হিসেবে সেই ফাইল ব্যবহার করে আপনার তৈরী মডেলকেও সেই অভিনেতার মত কাজ করাতে পারেন।
মোশান ক্যাপচার ডিভাইস অত্যন্ত দামী। হলিউডের বড় ষ্টুডিওগুলিও নিজেদের যন্ত্র ব্যবহার করে না, যারা এই সেবা দেয় প্রয়োজনের সময় তাদের কাছে কাজ করে নেয়। কাজেই সেটা কেনার কথা ভাবতে পারেন না। আর একাজে দক্ষতাও প্রয়োজন হয় উচুমানের। কাজের জন্য যা করতে পারেন তা হচ্ছে, মোশান ক্যাপচার ডাটা সংগ্রহ করে ব্যবহার করা।
ভাল খবর হচ্ছে, যারা ছোট কাজ করেন তাদের জন্য কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে বিনামুল্যে মোশান ক্যাপচার ডাটা পাওয়া যায়। যেমন মোক্যাপডাটা (http://mocapdata.com/)
এখানে হাটা, দৌড়ানো, লাফানো, নাচ, খেলাধুলা ইত্যাদি নানা বিষয়ে মোশান ক্যাপচার ডাটা পাওয়া যায়। ডাউনলোড করে আপনার এনিমেশনে ব্যবহার করতে পারেন। থ্রিডি ষ্টুডিও ম্যাক্স ছাড়াও অন্য যে সফটঅয়্যারগুলি মোশান ক্যাপচার ডাটা ব্যবহার করে তাদের সব যায়গায় এগুলি কাজ করবে। সফটইমেজ, মায়া এর মত বড় সফটঅয়্যার ছাড়াও তুলনামুলক সহজ পোজার পর্যন্ত।
ম্যাক্স সফটঅয়্যারের সাথে কিছু মোশান ক্যাপচার ডাটা উদাহরন ফাইল হিসেবে দেয়া হয়। এছাড়া ইন্টারনেটে খোজ করলে আরো অন্যান্য সাইট থেকেও আরো ডাটা পেতে পারেন।
থ্রিডি ক্যারেকটার এনিমেশনের জন্য কি করতে হয় সেটা জানা গেল। আগামীতে ক্যারেকটার মডেলিং, বাইপেড ফিট করা ইত্যাদি বিষয় হাতেকলমে কিভাবে করা যায় দেখানো হবে।
Share this post :

Post a Comment

Note: Only a member of this blog may post a comment.